ভাবসম্প্রসারণ: পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি
মূলভাব
“পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি”—এই প্রবাদটি দ্বারা বোঝানো হয় যে ভাগ্য বা সৌভাগ্য কেবল সেই ব্যক্তির দ্বারাই অর্জিত হয়, যিনি পরিশ্রমী। অলস, কর্মবিমুখ ও ভাগ্যনির্ভর মানুষ কখনো প্রকৃত সফলতা পায় না। ভাগ্য একমাত্র তাদেরই সাহায্য করে, যারা পরিশ্রম করে নিজেদের উন্নতির পথ তৈরি করে।
সম্প্রসারিত ভাব
জীবনে সফলতা ও সম্মান অর্জনের জন্য পরিশ্রম অপরিহার্য। মানুষ জন্মগতভাবে কোনো কিছু পায় না—জীবন গড়তে হয় নিজের চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। পৃথিবীর বড় বড় বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও নেতা যেমন—আইজ্যাক নিউটন, টমাস আলভা এডিসন, রবি ঠাকুর বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—তাঁদের সবার সাফল্যের পেছনে রয়েছে অসীম পরিশ্রম।
পরিশ্রম ছাড়া প্রতিভাও মূল্যহীন হয়ে পড়ে। কেবল বই মুখস্থ করে নয়, বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র—পড়াশোনা, খেলাধুলা, চাকরি, ব্যবসা—সবেতেই পরিশ্রমের ভূমিকা অপরিসীম। অনেক সময় আমরা দেখি কেউ পরিশ্রম করেও তৎক্ষণাৎ ফল পাচ্ছে না, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সে-ই সফল হয়। কারণ প্রকৃতি কখনো পরিশ্রমের মূল্য দিতে ভোলে না।
মন্তব্য
এই প্রবাদটি আমাদের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। এটি আমাদের শিখিয়ে দেয় যে পরিশ্রমই হলো জীবনের আসল মূলধন। ছাত্রজীবনে নিয়মিত অধ্যয়ন, জীবনে শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায় বজায় রেখে চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে উজ্জ্বল হয়। তাই পরিশ্রমকে অভ্যাসে পরিণত করে, ভাগ্যের অপেক্ষা না করে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। কারণ একমাত্র পরিশ্রমই মানুষকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।
Comments
Post a Comment