ভাবসম্প্রসারণ: অর্থই অনর্থের মূল
অর্থই অনর্থের মূল – অর্থলিপ্সার বিপদ ও নৈতিক জীবনের গুরুত্ব | ভাবসম্প্রসারণ বিশ্লেষণ
মূলভাব:
অর্থ মানুষের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও এর প্রতি অতিরিক্ত লোভ বা মোহ বিভিন্ন অনর্থ বা অশান্তির জন্ম দেয়।
সম্প্রসারিত ভাব:
অর্থ ছাড়া মানুষের দৈনন্দিন জীবন চলে না। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা—সবকিছুতেই অর্থের প্রয়োজন। তাই জীবনে অর্থ উপার্জনের চেষ্টাকে ন্যায়সংগত বলা যায়। কিন্তু যখন মানুষ অর্থকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তখন সে নিজের নীতিবোধ, মানবতা, আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিতে শুরু করে। এ ধরনের অন্ধ অর্থলিপ্সাই মানুষকে অবৈধ পথ অবলম্বন করতে বাধ্য করে—যেমন ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, প্রতারণা, চক্রান্ত ইত্যাদি। অর্থের জন্য মানুষ অনেক সময় বন্ধুকে শত্রুতে পরিণত করে, নিজের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করতে দ্বিধা করে না।
মানুষের চরিত্র ও বিবেক যখন অর্থের কাছে পরাজিত হয়, তখনই সমাজে দেখা যায় অনাচার, অন্যায় ও অবিচারের ছড়াছড়ি। রাষ্ট্রীয় স্তরে অর্থের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির বিস্তার, সামাজিক বৈষম্য ইত্যাদিও সৃষ্টি হয়। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, বহু সাম্রাজ্যের পতনের পেছনেও অর্থের লোভ একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
অর্থ প্রয়োজন, কিন্তু সে প্রয়োজন যেন সীমা না ছাড়ায়। অর্থের মোহে পড়ে যদি মানুষ নিজ বিবেক হারিয়ে ফেলে, তবে সে নিজের ও অন্যের জীবনে অনর্থ ডেকে আনে। শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামগ্রিকভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোও তখন ভেঙে পড়ে। অর্থ উপার্জন হোক শ্রম, মেধা ও সততার মাধ্যমে—এই নীতিতেই প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণ নিহিত।
মন্তব্য:
‘অর্থই অনর্থের মূল’ প্রবাদটি আমাদের সতর্ক করে দেয়—অর্থ উপার্জন জীবনের উদ্দেশ্য নয়, বরং জীবনের একটি উপকরণ মাত্র। অর্থের প্রতি সীমাহীন আসক্তি মানুষকে অমানবিক করে তোলে, নীতিহীন করে তোলে। সুতরাং, অর্থ উপার্জনে সংযম, সততা ও মানবতাবোধের চর্চা অপরিহার্য। অর্থ যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং আমরা যেন অর্থকে সঠিক পথে নিয়ন্ত্রণ করি—এই শিক্ষাই এই প্রবাদের মাধ্যমে আমরা গ্রহণ করি।
Comments
Post a Comment